
আগামিতে পৌর নির্বাচন ও দলের নেতৃত্ব থেকে সরাতে উদ্দেশ্য প্রনোদিতভাবে তাকে চাঁদাবাজির মামলার আসামি করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন নোয়াখালী পৌরসভা বিএনপির সভাপতি মো. আবু নাছের।
সোমবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টায় নোয়াখালী প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি করেন।
মো. আবু নাছের বলেন, একটি ঠিকাদারি কাজকে কেন্দ্র করে আমাদের দলের অন্য একটি গ্রুপের সঙ্গে আমার ভাইসহ লোকজনে বাকবিতন্ডা হয়। সে ঘটনাকে কেন্দ্র করে আমাকে প্রধান আসামি করে থানায় চাঁদাবাজির মামলা রুজু করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আমি সারাজীবন দলের জন্য নিজের অর্থ খরচ করে রাজনীতি করেছি। আমার বিরুদ্ধে বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার ৩৫টি মামলা দিয়েছে। এখন সুসময়ে দলের নেতৃত্ব ও আগামি পৌর নির্বাচন থেকে সরাতে দলীয় একটি পক্ষ ষড়যন্ত্র করে এ মামলা দায়ের করেছে। আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত জেলা বিএনপি সদ্য বিদায়ী কমিটির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুর রহমান বলেন, যারা এতোদিন আন্দোলন সংগ্রামে ছিল না। তারা দলের মধ্যে বিভাজন তৈরি করতে ফ্যাসিস্টদের মতো মিথ্যা মামলার আশ্রয় নিচ্ছে। আমরা বিষয়টি দলীয় ফোরামেও আলোচনা করবো।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নোয়াখালী হাউজিং প্রকল্পে ৮৫ লাখ টাকার মাটি ভরাট নিয়ে গত ২১ ও ২২ জানুয়ারি বিএনপির দুই গ্রুপের দফায় দফায় সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছে। এ সময় এক্সেভেটর, মাইক্রোবাস, মাইক ভাঙচুর করা হয়।
এ ঘটনায় গত শুক্রবার (৩১ জানুয়ারি) জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবদুল করিম মুক্তা বাদি হয়ে বিএনপি নেতা আবু নাছের ও তার ছোটভাই আবু ছাদেক জুয়েলসহ নয় জনের বিরুদ্ধে সুধারাম মডেল থানায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, চুরি ও চাঁদাবাজির মামলা রুজু করেন।
মামলার বাদি আবদুল করিম মুক্তা বলেন, আমাদের ঠিকাদারি কাজে বাধা দিয়ে চাঁদাদাবি করা হয়। চাঁদা না পেয়ে ২১ জানুয়ারি রাতে ওই গ্রুপ হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর করে। পরদিন ২২ জানুয়ারি ওই ঘটনার প্রতিবাদে নোয়াখালী প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করতে গেলে আবারো হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, তদন্ত করে ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পেয়ে মামলা রুজু করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতার চেষ্টা চলছে।
নোয়াখালী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের জিআরও সুভাষ চন্দ্র দাস বলেন, আগামি ৩ মার্চ এ মামলার পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করেছেন বিচারক।