নোয়াখালী
প্রধান শিক্ষক 'দুর্নীতিবাজ', অপসারণ দাবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ
নোয়াখালী বেগমগঞ্জের চৌমুহনী মদন মোহন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহবুবুর রশীদ তারেককে 'দুর্নীতিবাজ' আখ্যা দিয়ে তার অপসারণের দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছে শিক্ষার্থীরা।
সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত নোয়াখালী-ফেনী সড়ক অবরোধ করে এ কর্মসূচি পালন করে শিক্ষার্থীরা।
অবরোধকারী শিক্ষার্থীরা জানায়, মাহবুবুর রশিদ তারেক ঐতিহ্যবাহী চৌমুহনী মদনমোহন উচ্চ বিদ্যালয়ে যোগদান করার পর থেকে অনিয়ম দুর্নীতি ও লুটপাটে জড়িয়ে পড়েন। এরপর তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগ তোলেন শিক্ষক ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ,
তিনি স্বেচ্ছাচারীরতার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাত করেছেন। এছাড়া প্রধান শিক্ষক মাহবুবুর রশিদ তারেককে পতিত স্বৈরাচার শেখ হাসিনা সরকারের দোসর বেগমগঞ্জের সাবেক এমপি মামুনুর রশিদ কিরণের 'পা-চাটা গোলাম' আখ্যায়িত করে অবিলম্বে তার পদত্যাগ দাবি করে শিক্ষার্থীরা।
পরে দুপুর ১টার দিকে ১২ টা সেনাবাহিনী, বেগমগঞ্জ থানা পুলিশ ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিক্ষার্থীদের দাবি মানার আশ্বাস দিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে। এ সময় বাণিজ্যিক শহর চৌমুহনীর সড়কের দুই পাশে বহু যানবাহন আটকা পড়ে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিগত আওয়ামী লীগের শাসনামলে মদনমোহন উচ্চ বিদ্যালয়ের পশ্চিম পাশে মাঠের একাংশ ও সরকারি খাল দখল করে আট তলা দুটি ভবন ও বিদ্যালয়ের সম্মুখে দক্ষিণ পাশে মাঠের একাংশ ও সরকারি খাল দখল করে চার তলা ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। আটতলা দুটি ভবনের নিচ তলায় বিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন, দুই তিন ও চার তলা বাণিজ্যিকভাবে এবং পাঁচ থেকে আট তলা আবাসিক হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। সামনের চারতলা ভবন বাণিজ্যিক দোকান হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
এ ভবনগুলো নির্মাণ, ফ্ল্যাট ও দোকান বরাদ্ধ, বন্টন ও বিক্রিতে ব্যাপক অনিয়ম দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। তৎকালীন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বেগমগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রশিদ কিরণের যোগ সাজশে প্রধান শিক্ষক তারেক কোটি কোটি টাকা লুটপাট করেছেন।
যোগাযোগ করা হলে প্রধান শিক্ষক মাহবুবুর রশীদ তারেক অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের ভুল বুঝিয়ে সড়ক অবরোধ করা হয়েছে। বিদ্যালয়ের সভাপতি হিসেবে অ্যাডভোকেট আব্দুর রহিমের নাম প্রস্তাব করার পর থেকে একটি মহল আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে আসছে।
বেগমগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিটন দেওয়ান বলেন, শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিক্ষার্থীদের দাবি মানার আশ্বাস দিলে তারা অবরোধ তুলে নেয়।
বেগমগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আরিফুর রহমান বলেন, এ বিষয়ে আমি এখন কোন মন্তব্য করবো না।
কমেন্ট বক্স