আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস
কোথাও ঘুষ-দুর্নীতি থেমে নেই
আপলোড সময় :
১০-১২-২০২৪ ০৮:২২:৩৬ অপরাহ্ন
নতুন দেশ ডেস্ক:
দেশের কোথাও ঘুষ-দুর্নীতি থেমে নেই। গত এক মাসে হাজারও অভিযোগ জমা পড়েছে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক)। কিন্তু দুদকের কর্মকর্তারা নিষ্ক্রিয়। গত ২৯ অক্টোবর দুদক চেয়ারম্যানসহ পুরো কমিশন পদত্যাগ করায় আইনগতভাবে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে এখন কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ নেই। তবে কমিশন পুনর্গঠন হলে এসব অভিযোগের বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানা গেছে। এ ছাড়া এবারই প্রথম কমিশনবিহীন দুদক আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস পালন করতে যাচ্ছে।
সোমবার (৯ ডিসেম্বর) এই দিবস পালনে ব্যাপক আয়োজন না থাকলেও প্রয়োজনীয় আলোচনা সভা ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় প্রতি দিনই দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগ জমা হচ্ছে। সরকারি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিড়ম্বনা, হয়রানি ও ঘুষ দুর্নীতির শিকার হয়ে দুদকে অভিযোগ দিচ্ছেন অনেকেই। বিআরটিএ, পাসপোর্ট অফিস, ভূমি অফিস, সাব-রেজিস্ট্রি অফিস, হাসপাতাল, গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ, সিটি করপোরেশন ও পৌরসভাসহ দুর্নীতিপ্রবণ প্রতিষ্ঠানগুলোর চলমান অবৈধ ঘুষ-দুনীতি ও অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আসছেই। কখনো দুদকের হটলাইন ১০৬ নম্বরে ফোন করে, আবার কখনো রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদক প্রধান কার্যালয়ে জমা দেওয়া হচ্ছে লিখিত অভিযোগ। দেশের বিভিন্ন এলাকায় থাকা দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়গুলোতেও এ ধরনের অভিযোগ জমা হচ্ছে। কিন্তু কমিশনবিহীন দুদকের কর্মকর্তারা এসব অভিযোগের আইনগত পদক্ষেপ নিতে পারছেন না। আইন অনুযায়ী কমিশনের অনুমোদন ছাড়া এসব অভিযোগের আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার এখতিয়ার দুদক কর্মকর্তাদের নেই। সরকারি দপ্তরে চলমান অনিয়ম-দুর্নীতি বা ঘুষ লেনদেনের বিষয়ে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নিয়ে থাকে দুদকের এনফোর্সমেন্ট ইউনিট। কমিশন না থাকায় সেই কাজ বন্ধ রয়েছে।
প্রাপ্ত হিসাব অনুযায়ী, গত জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাসে সরাসরি ঘুষ লেনদেন ধরতে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে ২৩টি অভিযান চালিয়েছে এনফোর্সমেন্ট ইউনিট। কিন্তু কমিশন পদত্যাগ করার পর শত অভিযোগ এলেও একটিও অভিযান হয়নি।
এ ব্যাপারে দুদকের উপপরিচালক আকতারুল ইসলাম খবরের কাগজকে বলেন, ‘সাধারণত অভিযোগগুলো অনুসন্ধানযোগ্য কি না তা খতিয়ে দেখতে দুদকের যাচাই-বাছাই কমিটি কাজ করে থাকে। ২০০৪ সালের দুর্নীতি দমন কমিশন আইন অনুযায়ী কোনো অভিযোগের অনুসন্ধান শুরু করতে হলে কমিশনের অনুমোদন প্রয়োজন। গত ২৯ অক্টোবর চেয়ারম্যানসহ পুরো কমিশন পদত্যাগ করেছে। এখন যেহেতু কমিশন নেই, ফলে নুতন কোনো অনুসন্ধান, মামলা দায়ের বা আদালতে চার্জশিট দাখিলসহ এ ধরনের আইনগত কাজগুলো সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে না।’
আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস আজ (৯ ডিসেম্বর)। প্রতিবছর এই দিনটিতে ব্যাপক কর্মসূচি পালন করে থাকে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুর্নীতি প্রতিরোধে দিকনির্দেশনা ও করণীয় সংক্রান্ত মূল্যবান আলোচনায় প্রধান অতিথি থাকতেন রাষ্ট্রপতি। বিশেষ অতিথি থাকতেন প্রধান বিচারপতি। সভাপতিত্ব করতেন দুদক চেয়ারম্যান। কিন্তু এবার তা হচ্ছে না। কারণ, চেয়ারম্যানসহ পুরো কমিশন গত ২৯ অক্টোবর পদত্যাগ করেছেন। কমিশনবিহীন দুদকের এবারের আয়োজনে ততটা আড়ম্বর নেই। এবার দুদক সচিবের সভাপতিত্বে আলোচনা সভা হবে। প্রধান অতিথি থাকবেন অন্তর্বর্তী সরকারের আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। বিশেষ অতিথি থাকবেন দুর্নীতি দমন সংস্কার কমিশনের প্রধান ও ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। প্রতিবছর এই আলোচনা সভাটি দুদক ভবন সংলগ্ন শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মঞ্চে হয়েছে। এবার সেখানে হচ্ছে না। একাডেমির নবনিযুক্ত মহাপরিচালক সেটি বরাদ্দ দেননি। ফলে এ বছর আলোচনাটি হবে কাকরাইলে ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সে। মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি মিলনায়তনে সকাল ১০টায় এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।
এর আগে সকাল ৮টায় দুদক প্রধান কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন ও মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠিত হবে। মিট দ্য প্রেসে দুদকের পক্ষে বক্তব্য তুলে ধরবেন দুদক সচিব খোরশেদা ইয়াসমীন।
কমিশন পদত্যাগ করার পর চেয়ারম্যান ও দুই কমিশনার নিয়োগের জন্য সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. রেজাউল হকের নেতৃত্বে সার্চ কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে সদস্য হিসেবে রয়েছেন হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি ফারাহ মাহবুব, বাংলাদেশের মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক মো. নূরুল ইসলাম, বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোবাশ্বের মোনেম ও অবসরপ্রাপ্ত মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. মাহবুব হোসেন। এই কমিটি কয়েক দফা মিটিং করেছেন। তারা ৬ জনের নাম প্রস্তাব করবেন। এর মধ্যে তিনজনকে কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দিয়ে এবং তিন কমিশনারের মধ্যে একজনকে চেয়ারম্যান নিযুক্ত করে কমিশন পুনর্গঠন করবেন রাষ্ট্রপতি।
কমেন্ট বক্স